Templates by BIGtheme NET

ক্রাশ কী?

ক্রাশ শব্দটির অর্থ হলো কারো প্রতি প্রভাবিত হওয়া। এই জিনিসটা সাধারনত মেয়েদের থেকে ছেলেদের ই বেশি হয়। চেনা নেই জানা নেই হঠাৎ কাউকে দেখেই প্রেমে পড়া বেপারটা ছেলেদের ক্ষেত্রে ব্যাপক। এরপর অবশ্য কিছু নিয়মের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়, মেয়েটির সাথে পরিচয় হওয়ার চেষ্টা… বন্ধুদের সাহায্যে নম্বর কালেক্ট অতঃপর মেয়েটিকে ভালো লাগার ব্যাপারটি জানানো।

তবে সরাসরি জানালে হবেনা একটু ভিন্নমাত্রা যোগ করে ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে হবে। কারন সরাসরি বললে আজকালকের মেয়েরা নাকি
অনেক ফটকা মনে করে। আর প্লে-বয়রা এ ব্যাপারে পূর্ব সতর্ক।

এসব প্লে-বয়রা সাধারনত কখনো ওভার স্মার্ট হওয়ার চেষ্টা করেনা.. মেয়েদের সাথে কথা বলার সময় এরা অনেক বেশি অসহায়ত্ত প্রকাশ করে। যেন পৃথিবীতে কেউ নেই… আপনি একটু দৃষ্টি দিলে যেন সে নতুন প্রান ফিরে পাবে। কিন্তুু খোঁজ নিয়ে জানা যায় এদের একেকটার কম পক্ষ্যে ৩-৪ টা করে গার্লফেন্ড আছে। এইসব প্লে বয় দের ফাঁদে পড়ে বেশির ভাগ গ্রামের সহজ সরল মেয়েরা। কারন বর্তমান যুগের সাথে তাল মেলানোর প্রন্থা হিসেবে গ্রামের তরুন-তরুনীরা এখন খুব সহজেই ঢুকে পড়ছে ভার্চুয়াল জগতে।

যেই মেয়ে ৯ টা বছর মাদ্রাসার হেফজো বিভাগে পড়াশোনা করে আজ কোর-আনের হাফেজ। যার চেহারা পরিবারের সদস্য ছাড়া আত্নীয় স্বজনের অনেকেই আজও দেখেনি সে আজ জড়িয়ে পড়েছে এই জগতে। নানান প্ররোচনায় পড়ে ফেসবুকে নিজের চেহারা প্রকাশ করে ফেলছে। বিনিময়ে জুটছে কিছু সস্তা লাইক ও লুতুপুতুময় কমেন্টস। কি দরকার ছিল নিজেকে এভাবে জাহির করার? ছবি ছাড়া যদি আর ১০ জন মেয়ে ফেসবুক চালাতে পারে তুমি পারবে না কেনো? এটা তোমার ব্যার্থতা।

আকর্ষন বোঝেন আকর্ষন ? লোহার প্রতি যেমন চুম্বুকের আকর্ষন থাকে তেমনি মেয়েদের প্রতি ছেলেদের একটা আকর্ষন থাকে, চুম্বুক কে যখন দীর্ঘদিন ধরে লোহার সংষ্পর্শে রাখা হয় তখন আর এ পূর্বের ন্যায় আকর্ষন থাকে না ঠিক তেমনি একটি মেয়েকে যখন দেখার আগ্রহ সৃষ্টির সাথে সাথে দেখে ফেলা সম্ভব হয় তখন আর তার প্রতি অাকর্ষন থাকেনা।

এবার গল্পের মাধ্যমে ক্রাশ কী?

রহমান সাহেবের একমাত্র ছেলে শাওন। বাবার অঢেল সম্পত্তি থাকলেও ছেলেটা একটু বখাটে টাইপের..
দেখতে অনেকটা স্মার্ট হলেও এক কথায় প্লে-বয়। সকাল বিকেল রাস্তার মোড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি করাই তার প্রধান কাজ।
মা” না থাকায় বাধা দেওয়ার মত কেউ নেই। সেই সকাল ১০ টায় অফিসে যান রহমান সাহেব আর ফেরেন রাত ৯ টায়। বাসায় দুজন
কাজের লোক ছাড়া আর কেউ থাকেনা।

তাই প্রতিদিনের ন্যায় আজ বিকেলেও শাওন বন্ধুদের নিয়ে যাত্রাবাড়ি মোড়ে আড্ডা
দিতেছিল আর মাঝে মাঝে আইডিয়াল স্কুলের কিছু মেয়েকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে বাজে মন্তব্য করছিল। এরা সাধারনত মেয়েদের মেয়ে হিসেবে না বলে “মাল” হিসেবে বলাটায় প্রাধান্য দেয়। তাই এদের টিজ করার কথাবার্তাও ছিল অশলীল। কথা বলতে বলতে হঠাৎ শাওন সবাইকে চুপ করিয়ে দিয়ে সামনে তাকাতে বলে। সবাই তাকিয়ে দেখে একটি মেয়ে পরিপূর্ন হিজাব করে তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। দূর থেকেই অনেক সুন্দর লাগছে হিজাব করার ধরনটা। যদিও মেয়েটা কালো হবে না ফর্সা হবে এটা বোঝার বিন্দু মাত্র উপায় নেই।
,
ধীরে ধীরে মেয়েটি একেবারে সামনে চলে এসে মাথা নিচু করে বাম পাশের গলি ধরে ভেতরে চলে গেল…

কোমড়ে পড়ে থাকা কিছু চুল আর চোখ দুটো ছাড়া মেয়েটির আর কিছুই দেখতে পেলোনা কেউ..

সবার সাথে সাথে শাওন ও হা করে মেয়েটির চলে যাওয়া পথের দিকে অপলোক তাকিয়ে আছে।

হঠাৎ একজন শাওনকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে-
–কি রে মামা…

যেমনে তাকায়া আছোস মনে হয় প্রেমে পইড়া গেছোস?

–বুঝতাছিনা মামা… তয় মেয়েটার চোখের ভেতর একটা মায়া আছে কইতে হইবো.. আর হিজাব টা করছে ক্যামনে দেখছোস?

–হ..হ বুঝবার পারছি কেছ ফিটিং… তয় টিনা-মিনার কি হইবো.?

–আরে ওগুলোর কথা বাদ দে… ওরা তো খোলা মিষ্টি… আমার এখন দরকার স্পেশাল প্যাকেটের মিষ্টি। বুঝবার পারছোস কি কইছি.?

–হুম বুঝলাম… কিন্তুু এই মাইয়ার লগে প্রেম করবি ক্যামনে.?

–ক্যামনে মানে… তোরা আছোস না.!

–হু আছি তো… কিন্তুু আমরা থেকে কি করবো.?

–আরে বোকা কাল ঠিক এই সময় তোরা সবাই এখানে থাকবি… আমি মেয়েটাকে গিয়ে প্রোপোষ্ট করবো…!!

–হঠাৎ করে কাজটা করা কি ঠিক হইবো..??

–আরে বেটা রাখ তো… আগের গুলাও তো এমনেই হইছে.. এইটাও হইবো..!!

–আচ্ছা ঠিক আছে বন্ধু… আজ আসি তাহলে বাই..!!

–ওকে বাই।

এরপর পরের দিন বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে ফির একই জায়গায় আড্ডা জমায় শাওন… সবাই গল্পে ব্যস্ত থাকলেও শাওন কিছুটা আনমনা… কিছুক্ষন পর পর রাস্তার দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছিল.. অবশেষে আকাংক্ষিত সেই মেয়েটির অগ্রজ পথ দেখতে পায় শাওন। গুটি গুটি পায়ে সে এদিকেই এগিয়ে আসছে। বন্ধুদের মুখের দিকে তাকাতেই তারা সাহস দেই যা বন্ধু আমরা আছি তো…!!

অতঃপর একবুক নিঃশ্বাস নিয়ে মেয়েটির পথ আটকিয়ে সামনে দাঁড়ায় শাওন। মেয়েটি বলে-

–এসবের মানে কি? পথ আটকে দাঁড়ায়া আছেন কেনো?

–আসলে আমার নাম শা-শা-শাওন.. ইন্টারে পড়ি,, আমার আপনাকে ভালো লেগেছে এই নেন আমার নম্বর প্লিজ ফোন দিবেন..!!

কথাগুলোর বলার সঙ্গে সঙ্গে ঠাস-ঠাস-ঠাস…. কিছুটা সময়ের জন্য সব কিছুই নীরব হয়ে যায়… এরপর মেয়েটি গম্ভীর গলায় বলে-

দেখুন আপনি যদি আর ৫ টা মেয়ের মত আমাকে ভেবে থাকেন তাহলে ভুল করবেন… আমি একেবারেই ভিন্ন ক্যাটাগুরির মেয়ে। এসব সস্তা প্রেম আমি করিনা… তাছাড়া চেনা নাই জানা নেই আপনি হুট করে এসে আমাকে বললেন আপনার আমাকে ভালো লেগেছে আমার সাথে প্রেম করতে চান আর আমি রাজি হয়ে গেলাম। প্রেম জিনিসটা কি এতোই সস্তা.? আর আমার কি দেখে আপনি প্রেমে পড়লেন হা.? আমার সব কিছুই তো ঢাকা.? যত্তোসব পাগল…!!

কথাগুলো বলে হন হন করে চলে যায় মেয়েটি… আর হ্যাবলার মতো ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে রয় শাওন। বন্ধুদের সামনে পুরাই আবুল হয়ে গেল। তাঁর পরেও হাল ছাড়েনি… এভাবে প্রতিটা দিন মেয়েটির অপেক্ষায় মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে…!!

চারদিনের দিন যখন শাওন পূনরায় একই কাজ করে তখন মেয়েটি তার পরিবারকে ব্যাপারটি জানায়। পদক্ষেপ হিসেবে মেয়েটির বাবা শাওনের বাবাকে অবগত করে.. কিন্তুু তাতে কোনো ফল হয়না… রহমান সাহেবের কোনো কথার ই গুরুত্ব দেয়না শাওন। আসলে মা না থাকলে সন্তান যেমন হয়।

সবশেষে ৮ম দিনের মাথায় শাওন যখন মেয়েটির পথ আটকিয়ে দাঁড়াল-

–দেখো আমি সত্যি ই তোমাকে ভালোবাসি.. তোমাকে ছাড়া বাঁচবোনা… প্লিজ তুমি আজকেও না করোনা..!!

–প্লিজ… দেখেন আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি আমি এসব প্রেম- টেমে বিশ্বাস করিনা। আমাকে দয়া করে মাফ করেন।

–আচ্ছা প্রথমেই প্রেম করতে বলছিনা.. আমার সাথে আগে ফ্রেন্ডশীপ টা করে দেখো…!!

–ওকে আমি আপনার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করতে পারি.. তবে আমার দুটা শর্ত আছে..!

–হুম বলো কি শর্ত.? আমি তোমার সব শর্তে রাজি..!!

–আপনি আর কোনোদিন এ জায়গায় বসে আড্ডা দিতে পারবেন না… আর এসব বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে… পারবেন তো.?

(কিছুক্ষন চুপ করে থেকে)

–হ্যাঁ আমি তোমার জন্য সব পারবো… তবে আমাদের দেখা কিভাবে হবে.?

–দেখেন বন্ধুত্ব করেছি.. প্রেম নয়। সো প্রতিদিন দেখা করার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে একদিন দেখা হলে হতে পারে.. শুক্রবার বিকেলে আমি নীলাদের বাসার ছাদে থাকবো… আপনি আপনাদের বাসার ছাদে উঠলেই আমায় দেখতে পাবেন।

–মাত্র একদিন..?

–হুম… এখন বলেন রাজি কিনা.? আমার বাসায় ফিরতে অনেক দেড়ি হয়ে যাচ্ছে..!!

–আচ্ছা ঠিক আছে…আমি রাজি।

–ওকে তাহলে বাই… আর কাল থেকে যেন এ জায়গায় আপনাকে না দেখি..!!

–ওকে.. বাট ফোন নং টা অন্তত দাও..

–আমি ফোন ইউস করিনা..

–তাহলে আন্টির টা দাও..

–নাহ ১ মাস পরে আমার পরীক্ষা শেষ হলে বাসা থেকে ফোন দিবে… তখন নিয়েন… তবে তা শর্ত পূরন সাপেক্ষ।

–ওহহহ… আচ্ছা ঠিক আছে..

পরের দিন- শাওন এখন অনেক ভদ্র ছেলে.. বাহিরে কোথাও ঘোরাঘুরি বা আড্ডাবাজি
নেই… সারাদিন কেটে যায় কম্পিউটারে গেমস খেলে আর টিভি দেখে। আর নাম না জানা মেয়েটির সাথে দু-টা বাড়ির ছাদের দূরত্ব বজায় রেখে দেখা হয় মাঝে মাঝে। এভাবেই চলতে থাকে ১ মাস।

১ মাস পরে- মেয়েটির পরীক্ষা শেষ হওয়ায় বাসা থেকে তাকে একটা নতুন ফোন কিনে দেওয়া হয়। ১ মাস ১ দিনের মাথায় মেয়েটি ছেলেটিকে তার সেল নং দেয়। তবে এখনও মেয়েটির নাম এবং চেহারা অজানা। সেদিন বিকেলেই সর্বপ্রথম তাদের ফোনে কথা হয়। জানতে পারে মেয়েটির নাম মৌ.. ক্লাস নাইনে পড়ে। নামটা শোনার পর থেকে শাওন সারক্ষন বিড়বিড় করে বলতে থাকে… নামটা বলতে বেশ ভালোই লাগে-‘মৌ’

এভাবেই দিনের পর দিন তাদের কথা বার্তা বাড়তে থাকে। বেশি কথা বলার এক পর্যায়ে তাদের সম্পর্কটা ‘আপনি-তুমি’ থেকে একেবারে তুই এ চলে যায়। নানা রকম দুষ্টমিতে সম্পর্কটা অনেক বেশি মধুর হয়ে যায়। চলতে থাকে ৩ মাস।

৩ মাস পরে- মৌ ধীরে ধীরে কথার ফাঁকে শাওনের খারাপ দিকগুলো নিয়ে ইঙ্গিত দিতে শুরু করে-সারাদিন বাসায় বসে কম্পিউটার গেমস খেলতে পারবিনা…. কলেজে ঠিক মত গিয়ে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে… আর যথা সম্ভব ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়াড় চেষ্টা করতে হবে।

কথাগুলো শুনে প্রথমে আমতা করলেও মানতে বাধ্য… কারন মৌয়ের সাথে কথা না বলে একটা মূহুর্তও থাকতে পারবেনা শাওন। এরপর কেটে যায় আরো দু সপ্তাহ.. মৌ’য়ের শর্ত অনুযায়ী শাওন সবকিছু সতর্ক ভাবে মেনে চলে।

৯ মাস চলতি- শাওন এখন অন্য রকম ছেলে… পুরোই পরিবর্তন… বন্ধু বান্ধবের ফোন ধরেনা আর ধরলেও এড়িয়ে চলে সব সময়। সব সময় পাঞ্জাবি-টুপি পড়ে থাকে। রাতে যখন বাবার সাথে টেবিলে খেতে বসে বাবার কাজ কর্মের ভালো-মন্দ খবর নেয়.. হঠাৎ ছেলের এমন পরিবর্তনে রহমান সাহেব সহ বাসার কাজের লোক পর্যন্ত যতোটা না অাশ্চর্য… তার থেকে অনেক বেশি খুশি।

৪ বছর কেটে গেছে-শাওন-মৌ’য়ের বন্ধুত্ব এখন আছে.. শাওন এ বছর বিদেশ থেকে পিএইচডি করে দেশে ফিরেছে… আর অন্যদিকে মৌ’ মা হতে চলেছে। তবে বিয়েটা শাওনের সাথে হয়নি। যদিও দু-পরিবারের মত ছিল ওদের বিয়েতে। তবে শেষ পর্যন্ত দু-জনই সিদ্ধান্ত নেয় তারা স্বামী-স্ত্রী নয় বন্ধু হিসেবেই পারফেক্ট। এতকিছুর পরেও শাওন এখনো বিয়ে করেনি তবে সামনের বছর করবে।

এখনও তারা অতীত দিনগুলোর কথা মনে করে হাসাহাসি করে… মৌ’য়ের জন্য কি পাগল টাই না ছিল শাওন।
ভালো আছে ওরা অতীত-বর্তমান গুলোকে আকড়ে ধরে…
শুধু মাঝে মাঝে কিছু মূহুর্তের কথা মনে করে ফিক করে হেসে দেয় দুজন। বন্ধুত্ব এমন ই।

মনে রাখবেন একজন ভালোবাসার মানুষ চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে… পরিবর্তন করতে পারে নিজেকে কিংবা প্রিয়জনকে। এরা অনেক সময় পৃথিবীতে এমন কিছু নজির স্থাপন করে যায় যা অমলীন… কখনো ভোলার নয়। একজন
খারাপ মানুষও ভালোবাসার সংস্পর্শে এলে ভালো হয়ে যায়। তাই কাউকে খারাপ ভেবে দূরে ঠেলে না দিয়ে একটু ভালোবাসার স্পর্শ দিয়ে দেখুন সে ও একজন পরিপূর্ন মানুষ হয়ে ওঠেছে।

শ্রদ্ধা করি ভালোবাসাকে… আর সেই ভালোবাসার মানুষগুলোকে। যারা একে অন্যের জীবনের পরিপূরক ও অসম্পূর্নতা সম্পূর্ন করে বেঁচে আছে সুন্দরভাবে।

@2018 Powered By Bestearnidea.com Theme By Bestearnidea.com