ফিশিং সাইট (Phishing) কি? কিভাবে ফিশিং সাইট হয় ?

0
10

ফিশিং সাইট কি? কিভাবে ফিশিং সাইট হয় ?

ইন্টারনেটে ফিশিং সাইট (Phishing) বলতে প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ব্যবহারকারী পাসওয়ার্ড, নাম , ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ইত্যাদি চুরি করাকে বোঝানো হয়ে থাকে।

একদল প্রতারকেরা এই পদ্ধতিতে কোনো ভাল সুন্দর ওয়েবসাইট সেজে মানুষের কাছ থেকে তথ্য চুরি করে থাকে।ফেসবুকে, ইমেইল ও ইন্সট্যান্ট মেসেজের মাধ্যমে সাধারণত ফিশিং সাইটের লিংক দিয়ে থাকে।প্রতারকেরা তাদের শিকারকে কোনো না কোনো ভাবে ধোঁকা দিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। তাদের ওয়েবসাইটটি সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ইমেইল, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডের আসল ওয়েবসাইটের চেহারা হুবাহুব নকল করে থাকে।

ব্যবহারকারীরা সেটাকে আসল সাইট ভেবে নিজের তথ্য প্রদান করলে সেই তথ্য প্রতারকদের হাতে চলে যায়।ফিশিং হলো সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামক প্রতারণা কৌশলের একটি উদাহরণ।ফিশিং প্রতিরোধের জন্য এখন আইন প্রণয়ন, ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ,জনসচেতনতা সৃষ্টি, এবং কারিগরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। ফিশিং এর পদ্ধতি প্রথম বর্ননা করা হয় ১৯৮৭ সালে। ফিশিং (Phishing) শব্দটির প্রথম ব্যবহার হয় ১৯৯৬ সালে। ইংরেজি fishing বা মাছ ধরা শব্দটির অপভ্রংশ হিসাবে এর উদ্ভব হয়েছে।।

সম্ভবতঃ ফ্রিকিং (phreaking) এর অনুকরণে এই শব্দের প্রচলন হয়েছে।মাছ ধরার সময়ে যেমন টোপ ফেলে মাছদের ধোঁকা দেয়া হয়, সেরকম এই পদ্ধতিতেও ব্যবহারকারীদের ধোঁকা দিয়ে তথ্য বের করে নেয়া হয়। ফিশিং এর বিভিন্ন ধরণ সমূহ মানসিক ধোঁকা

কিছু কিছু মেইল এসে থাকে যেখানে লেখা থাকে “to restore access to your bank account …” .সাধারণ ভাবেই মানুষ এই ধরনের লিঙ্কগুলোতে গিয়ে ক্লিক করে থাকেন।লিঙ্ক পরিবর্তন

সাধারণত তারা ওয়েবসাইটগুলোর লিঙ্কগুলকে সামান্য পরিবর্তন করে ব্যভার করে থাকে।যা সাধারণ চোখে আমরা ধরতে পারি না।যেমন ধরতে পারি’www.facebook.com’ যদি তারা এই লিঙ্কটাকে সামান্য পরিবর্তন করে লিখে ফেলেন ‘www.faceboook.com’ বা ‘www.facebok.com’ তাহলে সাধারণ ভাবেই মানুষ ধোঁকা খেয়ে যাবেন।ফোন ফিশিংঅনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে কিছু কিছু কোম্পানি থেকে নাকি ফোন আসে যে তারা সে কোম্পানির কর্মকর্তা বা কর্মচারী তারা তার একাউন্টটা যাচাই করার জন্যে একাউন্ট নাম্বার সাথে তার পিন নাম্বার(এটিএম) চেয়ে থাকেন।

ফিশিং এর কারনে ক্ষয়ক্ষতি ২০১১ এর জুলাই থেকে ২০১২ এর জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি দশ লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সাইবার অপরাধের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তাদের প্রত্যেকের গড় ক্ষতির পরিমান প্রায় ২৯০ ডলার।অপরদিকে সারা বিশ্বে ফিশিং এবং ম্যালওয়্যার এর কারনে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার এর ক্ষতি হয়েছে, যার কারনে মাথাপিছু ক্ষতির পরিমান প্রায় ১৯৭ ডলার।যা যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীদের ফাষ্টফুডের পেছনে বাৎসরিক খরচের সমান। এই অর্থের ৪২ ভাগই যাচ্ছে ফ্রড কেস এ।

 

LEAVE A REPLY