গুগল প্রথম পেজে যাওয়ার টিপস

0
13

আপনাকে একজন পরিপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হতে হলে আপনাকে অনেক কিছুই জানতে হবে। কাজ জানা থেকে বেশি জানতে হবে টিপস। আমি যখন এস ই ও নিয়ে কথা বলি তখন সব থেকে বেশি কাজের চেয়ে অকাজের কথাগুলো বেশি বলি। মানে এস ই ও ছাড়াই কথা বলি। এতে অনেকে মনে করে আমি হইত কোনভাবে শিখাব না ই জন্য অন্য টপিকস এ চলে যাচ্ছি। মুল কথা যে আমার প্রথম ক্লাস করতে আসে সে প্রথম ঘণ্টা তে কনফিউজ হয়ে যায়।


পরবর্তীতে ঠিকই সাড়া দিয়ে বলে ভাই আপনার উপর প্রথম দিকে খুব রাগ হয়ে গিয়েছিল।

এবং এই কথা টা প্রত্যেক প্রথম ক্লাসে আমাকে শুনতে হয়। এর আসল কারন একটাই E=mc স্কয়ার  দিয়ে যদি পৃথিবীতে স্রষ্টা বলে কিছু নেই এটা প্রমান হয় তবে E=SEO এইটা প্রমান হবে। আসলে মুল কথা টা এই যে সর্ব প্রথম এস ই ও করতে গেলে আপনাকে লজিক বুঝতে হবে। আপনাকে যে কোন কিছু কে লজিক দিয়ে প্রমান করতে হবে এই টা না এইটা।

যখন আপনার ভিতর এই জিনিস টা ভালোভাবে স্থান পাবে অর্থাৎ আপনি যখন এই লজিক টা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারবেন তখন এস ই ও করা আপনার জন্য ইজি মনে হবে। কেন বলছি এই কথাগুলো এখন নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন।

সব সময় একটা দিক আপনি আজকে থেকে চর্চা করা শুরু করবেন বিভিন্ন দিক দিয়ে লজিক প্রাকটিস করা। এটা আপনার ফ্রেন্ড দের সাথে বেশি করবেন। এই কারনে করবেন কারন আপনি একটা জিনিস দেখবেন আপনার কথার পাল্টা জবাব দিতে পারে শুধুমাত্র আপনার ফ্রেন্ড। তাই লজিক চর্চা করার একটি সুন্দর মাধ্যম হু ফ্রেন্ড।

একটা জিনিস ভুল সেটা আপনিও জানেন কিন্তু ওই ভুল জিনিস টা কে সঠিক হিসেবে আপনার ফ্রেন্ড এর সামনে উপস্থাপনা করতে হবে। আপনার ফ্রেন্ড ও জানে এইটা ভুল বলতেছে তবুও ওই ভুল জিনিসটা কে সঠিক করে তার উপর প্রতিস্থাপন করা টা আপনার মুল কাজ। আর এই কাজটি যখন আপনি খুব সহজেই করতে পারবেন তখন দেখবেন এস ই ও আপনার কাছে পানি হয়ে গেছে। শুধুমাত্র এস ই ও না।

আপনার পড়ালেখার দিক থেকেও আপনি একধাপ এগিয়ে গেছেন। আপনার না জানা একটি প্রশ্ন পরিক্ষা তে পড়েছে কিন্তু আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন খুব সহজেই। কারন ওই প্রশ্নের উত্তর টা আপনি আপনার লজিক থেকে দেবেন। আপনি চিন্তা করতে থাকবেন আসলে এই প্রশ্ন টা কি বলছে সেই প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে আপনি একটা উত্তর দিতে সক্ষম। এটা প্রমানিত একটি কথা। আজকে থেকে আপনি চেষ্টা করুন দেখবেন কাজে আসবে।

আমাকে আমার স্যার ২ বছর ধরে শুধু এই লজিক এর উপর রাখত। সে সারাক্ষন ভুল কিছু বলে আমাকে সেটা বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করাতো। সে এমন কিছু লজিক দাড় করাতো যে আমি কোন ভাবেই সেই লজিক ভেঙ্গে বের হতে পারতাম না। আমার ওই ক্ষোভ শুরু হয় স্যার প্রতিদিন আমারে ভুল্ভাল বলে সেটা প্রমান করে দেই আর আমি সেটা পারি না।

এভাবে চলত তুমুল লড়াই আমার আর আমার স্যার আর ভিতর। এমনকি এখন চলে লজিকে জেতার লড়াই।

আমি আর স্যার যেখানেই যেতাম কোন না কোন টপিকস নিয়ে লড়াই শুরু হয়ে যেত। এভাবেই আমার লজিক জ্ঞান টা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাই। যদিও এখন আমি তার সাথে পেরে উঠি না। তবু আমার কাছ থেকে জিততে হলে তাকে প্রচুর ঘাম ঝরাতে হয়। অনেক সময় সে ইচ্ছা করে আমাকে জেতাই।
তো সব কথার একটা কথা লজিক জানতে হবে ভালে। একজন পারফেক্ট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হতে হলে লজিক জানা টা আপনার জন্য ওয়াজিব বলতে পারেন। কারন লজিক আপনাকে চিন্তা করার শক্তি দেই। আর যেকোনো মুহুরতে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি সক্ষম হন। আমরা সবাই জানি এস ই ও এর কোন অধ্যায় নেই।

তবে আপনি যখন একজন এস ই ও অপটিমাইজার হিসেবে নিজেকে দাড় করাবেন তখন এমন কিছু কিছু বিদঘুটে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন যেটা কখনও আপনি জানেন না। কিন্তু কি বলবেন তাকে? যদি উত্তর না দিতে পারেন তাহলে তো আপনারে ময়লার ধুলার সাথে মিসিয়ে দিয়ে ইনসাল্ট করা শুরু করবে। সে যে উত্তর জানে সেটা না আপনি লজিক দিয়ে একটা উত্তর তৈরি করবেন । সেটা সে মানতে চাইবে না কিন্তু তার লজিক ভেঙ্গে আপনার লজিক টা তার উপর প্রতিস্থাপন করা টা একজন এস ই ও স্পেশালিষ্ট এর কাজ। আর জিনিই এই কাজগুলো করত সক্ষম তিনিই স্পেশালিষ্ট হিসেবে নিজেকে দাবী করতে পারেন।

আসলে এই লজিক এর পিছনে এত বকবক করার কিছু কারন রয়েছে সেই কারন গুলো হল বরতমানে কিন্তু সেই আগের যুগ নেই। ব্যাকলিঙ্ক, বুকমারকিং করলেই কিন্তু একটি ওয়েবসাইট কে সামনে নিয়ে আসা যায় না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আপডেট হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি সেই পরিস্থিতির সাথ মোকাবেলা না করতে পারেন তাহলে আপনি কখনও একজন এস ই ও স্পেশালিষ্ট না। আর যে সময় যে পরিস্থিতি আসুক না কেন সেটা মোকাবেলা করে লজিক দিয়েই আপনি একটি সাইট কে টপে নিয়ে আসতে পারবেন।

লজিক এর উপর তো অনেক কথা হল। এখন একটু কাজের দিকে যায়। ধরুন আপনি কোন ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে একটা কাজ পেয়েছেন। কাজ টা হল কোন একটি কি ওয়ার্ড দিয়ে আপনাকে গুগল টপ পজিশনে আসতে হবে তাহলে আপনার কি জানা দরকার এবং কি কি দরকার সেটা সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব।

প্রাথমিক যে কাজ গুলো করা প্রয়োজনঃ সর্ব প্রথম আপনি ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে সাইট এবং কি ওয়ার্ড নিলেন এখন আপনাকে যে কাজ গুলো করতে হবে সেটা হল প্রথমে আপনাকে যে কি-ওয়ার্ড টি গুগল এ সার্চ করতে হবে দেখতে হবে প্রথম ১০ টি সাইট এর সব কিছু।

যা যা দেখার প্রয়োজন বিশেষভাবেঃ

  • পেজ র‍্যাঙ্ক দেখতে হবে।পেজ র‍্যাঙ্ক দেখতে হলে আপনি এই টুল টি ব্যবহার করতে পারেন। টুল লিঙ্কা এখানে 
  • সাইট এর ব্যাকলিঙ্ক দেখতে হবে।ব্যাকলিঙ্ক দেখতে হলে আপনি এই টুল টি ব্যবহার করতে পারেন। টুল লিঙ্কা এখানে 
  • কি- ওয়ার্ড টুল থেকে কি-ওয়ার্ড এর কম্পিটিশন টা দেখতে হবে।কি-ওয়ার্ড এর কম্পিটিশন  দেখতে হলে আপনি এই টুল টি ব্যবহার করতে পারেন। টুল লিঙ্কা এখানে ।

এখন আপনি একই কাজ টি করবেন আপনার ক্লায়েন্ট বা আপনার সাইট এর জন্য। অর্থাৎ আপনি আপনার সাইট টি উপরের মত রিসার্চ করবেন। তাহলে আপাতত কাজ কমপ্লিট।
এখন আপনার চিন্তা করার পালা। কারন আপনাকে এখন চিন্তা করতে হবে কি করলে সাইট টি আমি ওই পজিশনে নিয়ে আসতে পারব।কি কি কাজ করলে সাইট টি আপনি উপরে নিয়ে আসতে পারবেন এই চিন্তা করা শুরু করতে হবে।

আর সেই অনুযায়ী আপনি কাজ করতে থাকবেন। আর আপনি যখন এই চিন্তা শক্তি কাজে লাগিয়ে সফল হবেন তখন আপনি একজন পারফেক্ট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। সাধারনত একটা বিষয় খেলা রাখবেন সেটা হল অনেক ওয়েব সাইট আছে যারা কাজ করে না অর্থাৎ তারা ওই কি- ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করেনা। কিন্তু তাদের সাইট টপ পজিশনে থাকে।

তো এইসব কি- ওয়ার্ড গুলো টপ পজিশনে নিয়ে আসা খুব সহজ। কারন ওই সাইট ওই কি- ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করছে না। কিন্তু ভিজিটর আসছে। আর আপনি ওই কি ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে এবং হিউজ পরিমা ভিজিটর গ্যাদার করতে পারবেন। এইভাবে আপনাকে একটি সাইট এর কাজ করতে হবে।

তবে কিছু জিনিস মাথাই রাখা বেশ জরুরী বর্তমানে। কারন এস ই ও নিয়ে প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। যত আপডেট হচ্ছে তত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই আপনি কিছু কার করবেন যার মূল্য আপনি সারাজীবন পাবেন।

সেই গুলোর ভিতর আছে।

  • ব্যাকলিঙ্ক। তবে ডু-ফলো এবং রিলেটেড সাথে উচ্চ পেজ র‍্যাঙ্ক।
  • উইকি, ইডূ, গভ ব্যাকলিঙ্ক করবেন হাইপেজ র‍্যাঙ্ক এর।
  • গেস্ট ব্লগিং করবেন তবে পরিমান মত। একাধারে করতে থাকবেন না। আর গেস্ট ব্লগিং এর উপর সব সময় একটু বেশি জোর দিবেন।
  • ওয়েব ২.০ আপনার কি-ওয়ার্ড টি কে টপে আনতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।
  • ফোরাম পোস্টিং টা অনেক হেল্পফুল। এখান থেকে ভিজিটর সহ কি-ওয়ার্ড এর গুরুত্ব টা অনেক বেশি পাওয়া যায়। তবে ফোরাম কিন্তু ডু-ফলো এবং রিলেটেড টা অনেক বেশি কাজ দেই।
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং টা অনেক বেশি কাজে দিবে। লিঙ্কদিন, ফেসবুক এবং টুঁইটার আপনাকে অনেক বেশি কাজে দিবে।

তো এইভাবে আপনাকে একটা সাইট কে উপরে নিয়ে আসতে হবে। চিন্তা করতে হবে আমি কি পরিমান কাজ করলে এই সাইট টি কে উপরে নিয়ে আসতে পারব। তবে একটা জিনিস মাথাই রাখবেন কাজ করতে করতে যেন আপনি বন্ধ করে দিবেন না। সব সময় মাথাই রাখবেন আজকে যে পরিমান কাজ করছি আগামীকাল তার ২০% বেশি করতে হবে।

এই ফর্মুলা টা মাথাই রেখে কাজ চালিয়ে যাবেন। আশা করি সফল হবেন।

LEAVE A REPLY