সেরা ১০ মুসলিম বিজ্ঞানীর পরিচয়।

0
5

মুসলিম বিজ্ঞানীদের নামের তালিকা:

১- জাবির ইবনে হাইয়ানঃ

মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান আল-আজদি আস সুফি আল-ওমাবি। (জন্ম:৭২১ – মৃত্যু:৮১৫খ্রিস্টাব্দ) কুফায় বসবাসের সময় তিনি রসায়ন শাস্ত্র গবেষণায় বিশেষ মনোযোগী হন এবং একটি রসায়ন গবেষণাগারও প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা ওই গবেষণাগারকে পৃথিবীর প্রথম রসায়নাগার বলে অভিহিত করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে রসায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো চর্চা করার উপায় উদ্ভাবন আল বিরুনি পারস্যের মুসলিম মনীষী আবু রায়হান।

১০ম শতাব্দীর প্রাথমিক দিকে, জাবিরের কাজের পরিচয় এবং সঠিক রচনাসমূহের সংগ্রহ ইসলামী চক্রের মধ্যে বিতর্ক ছিল। তিনি ১৩শ শতাব্দীতে ইউরোপে একজন বেনামী লেখক ছিলেন এবং পাশ্চাত্যের খ্রিস্টানরা লাতিন অনুযায়ী তাঁর নাম “জেবার” দেন। সাধারণত তাকে ছদ্ম-জেবার হিসাবে উল্লেখ করে। তিনি কলম-নাম জেবার অধীনে আল-কেমি ও ধাতুবিদ লিখেন।

জাবিরের রচনাসমূহ

জাবির ইবন হাইয়ানকে প্রায় ৩,০০০ থেরাপিই এবং নিবন্ধসমূহের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। তার রচনার পরিধি ছিল সুবিশাল: সৃষ্টিতত্ব, সঙ্গীত, ঔষধ, জাদু, জীববিজ্ঞান, রাসায়নিক প্রযুক্তি, জ্যামিতি, ব্যাকরণ, দর্শনশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা, জীবিত প্রাণীর কৃত্রিম প্রজন্ম, জ্যোতির্বিদ্যার পূর্বাভাস এবং সাঙ্কেতিক ইমামি কাল্পনিক।

 

২- আল-বিরুনিঃ

আবু রায়হান আল বিরুনি ২০ বছর বয়স তিনি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ শুরু করেন।তাঁর পূর্ণ নাম “আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনি”।  (জন্ম: ৯৭৩- ১০৪৮) ৩ বছর ধরে তিনি গোটা পারস্য চষে বেড়ান এবং বিভিন্ন পণ্ডিতের অধীনে পড়ালেখা করে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। তিনি শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ধাতু এবং রত্নপাথর সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষা করেন। স্থিতিবিদ্যা এবং গতিবিদ্যাকে একীভূত করে বলবিদ্যা নামক গবেষণার নতুন ক্ষেত্রের প্রবর্তন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে একটি হলের নামকরণ করা হয়।

মৃত্যুঃ

আল-বিরুনি ৬৩ বছর বয়সে গুরুতর রোগে আক্রান্ত হন। তার পরও তিনি ১২ বছর বেঁচেছিলেন। ১৩ই ডিসেম্বর ১০৪৮ খ্রিস্টাব্দে, ৪৪০ হিজরি ২ রজব তিনি ৭৫ বছর বয়সে মারা যান।

গ্রন্থঃ

আল-বিরুনির সর্বমোট ১১৪টি গ্রন্থের উল্লেখ তিনি নিজে করেছেন। এর মধ্যে ১০৩টি গ্রন্থ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ১০টি অসম্পূর্ণ গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে। আবু নাসের মানসুর ১২টি, আবু সাহল আ-মাসিহি ১২টি, আবু সাহল আল-মাসিহি ১২টি, আবু আলি আল-হাসন ইবন আলি আল-জিলি একটি পুস্তক তার নামে আরোপিত করে উল্লেখ করেছেন। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৮টি। উপরিউক্ত রিসালায় রচনার পরে তিনি আরো কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হতে প্রতীয়মান হয়, তার রচিত গ্রন্থের সর্বমোট সংখ্যা ১৮০টি। এগুলো তথ্য, তত্ত্ব ও পরিসরের দিকে হতে বিভিন্ন। কোনোটি পুস্তক, কোনোটি গবেষণামূলক সন্দর্ভ আবার কোনোটি বৃহদাকার গ্রন্থ, যাতে জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার বিধৃত ধারণ করা হয়েছে।

 

৩- ইবনে সিনাঃ

আবু আলী হোসাইন ইবনে সিনা (বুআলি সিনা, ৯৮০ – ১০৩৭) মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক। বোখারা শহরটি সে সময় ছিল ইরানের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মাত্র ষোলো বছর বয়সে সমকালীন জ্ঞানী গুণী চিকিৎসক এবং মনীষীদের পড়িয়েছেন। ফলে সহজেই বোঝা যায় তিনি ছিলেন সে সময়কার সবচেয়ে বড় চিকিৎসক। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি আল মুজমুয়া নামে একটি বিশ্ব কোষ রচনা করেন। এর মধ্যে গণিত ছাড়া সকল বিষয় লিপিবদ্ধ করেন। ইবনে সিনা পদার্থ বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, জ্যামিতি, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে প্রায় শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি তার সময়ে পৃথিবীর সেরা চিকিৎসক।

জন্ম ও বংশপরিচয়

ইবনে সিনা বুখারার (বর্তমান উজবেকিস্তান) অন্তর্গত খার্মাতায়েন জেলার আফসানা নামক স্থানে ৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে (মতান্তরে, আগস্ট মাস) জন্মগ্রহণ করেন। আরবি পঞ্জিকা অণুসারে সালটি ছিল ৩৭০ হিজরি। তার পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম সিতারা। তার মাতৃভাষা ছিল ফার্সি। ফার্সি ভাষায় তিনি বেশ কিছু কবিতা ও গ্রন্থ রচনা করেন। তবে সমকালীন অন্যান্যদের মত তিনিও আরবি ভাষাকে জ্ঞান প্রকাশের মূল বাহন হিসেবে গ্রহণ করেন। ইবন সীনার পিতা বুখারার সামানীয় সম্রাটের অধীনে একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।

 

৪- ওমর খৈয়ামঃ

ওমর খৈয়াম জ. মে ১৮ ১০৪৮ – মৃ. ডিসেম্বর ৪, ১১৩১) একজন ইরানের কবি, গণিতবেত্তা, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ। অনেক ইতিহাসবিদের মতে সুলতান মাহমুদের মৃত্যুর কিছু আগে ওমর খৈয়াম জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। জীবদ্দশায় ওমরের খ্যাতি ছিল গণিতবিদ হিসাবে। তিনি প্রথম উপবৃত্ত ও বৃত্তের ছেদকের সাহায্যে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করেন। ওমরের আর একটি বড় অবদান হলো ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্যের সমালোচনা যা পরবর্তী সময়ে অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সূচনা করে।

জ্যোতির্বিদ্যা

ওমর খৈয়াম জ্যোতির্বিদ হিসাবেও সমধিক পরিচিত ছিলেন। সেলজুকের বাদশাহ মালিক শাহ ১০৭৩ সালে আরো কয়েকজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে ওমরকেও আমন্ত্রণ জানান একটি মানমিন্দর নির্মাণের জন্য। ওমর তখন অত্যন্ত সফলভাবে (দশমিকের পর ছয় ঘর পর্যন্ত) সৌর বছরের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করেন। তার হিসাবে এটি ছিল ৩৬৫.২৪২১৯৮৫৮১৫৬ দিন। এই ক্যালেন্ডারের হিসাবে প্রতি ৫,৫০০ বছরে এক ঘণ্টার গড়মিল হয়ে থাকে। আমরা যে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করি তাতে প্রতি ৩,৩০০বছরে একদিন গোলমাল হয়ে থাকে। কীভাবে পারস্য পঞ্জিকা সংশোধন করতে হবে তাও তিনি হিসাব করেন। ১০৭৯ সালের ১৫ মার্চ সুলতান জালাল আল-‌দিন মালিক শাহ সালজুক ওমরের সংশোধিত বর্ষপঞ্জী চালু করেন। ওমর একটি তারাচিত্র বা খ‌ন্ড চিত্রও তৈরি করেন তবে সেটি এখন আর পাওয়া যায় না।

 

৫- মুসা আল খাওয়ারিজমিঃ

(৭৮০-৮৫০) মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। মুসা আল খাওয়ারিজমি তার পুরো নাম আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমি। সোভিয়েত রাশিয়ার আরব সাগরে পতিত আমু দরিয়ার নিকটে একটি দ্বীপের নিকটে অবস্থিত আনুমানিক ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বীজগণিত তথা এলজেবরার জনক। তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক বহু গ্রিক ও ভারতীয় গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদ করেন। তার রচিত বই ‘কিতাব আলজিবর ওয়াল মুকাবিলা’ হতে বীজগণিতের ইংরেজি নাম অ্যালজেবরা উত্পত্তি লাভ করে।

বীজগণিতে অবদান

বীজগণিত হল ইসলামী সভ্যতায় তার সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান। বীজগণিতকে তিনিই প্রথম গণিতশাস্ত্রের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলেন এবং এর প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভারতীয়রাই প্রথম বীজগণিত নিয়ে গবেষণা করে এবং গ্রিকদের মধ্যে কেবল ডায়োফ্যান্টাস ব্যতিত আর কাউকে বীজগণিত নিয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা করতে দেখা যায়নি। ভারতীয়দের গাণিতিক উত্কর্ষের সময়টা অনেক প্রাচীন ছিল। সুতরাং খারিজমির সময় বীজগণিতের অবস্থা ছিল ম্রিয়মান। এ সময় তিনি বীজগণিতের ভিত্তি স্থাপন করে আধুনিক গণিতের পথকে অনেকটাই কুসুমাস্তীর্ণ করে তোলেন। তাকে গণিতের অন্যতম জনক হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

  • খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে হিন্দু গণিতবিদগণ দশমিক পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। হিন্দুদের উদ্ভাবিত এই দশমিক পদ্ধতি খারিজমিই প্রথম ইসলামী জগতে নিয়ে আসেন। তার রচিত The Book of Addition and Subtraction According to the Hindu Calculation (যোগ-বিয়োগের ভারতীয় পদ্ধতি) তারই উদাহরণ।
  • আরবি ভাষায় তার রচিত গ্রন্থই সর্বপ্রথম ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়। পাশ্চাত্য সভ্যতায় ল্যাটিন ভাষার মাধ্যমেই তার গবেষণার বিকাশ ঘটে। অ্যালগরিদম উত্পত্তিই এর উত্কৃষ্ট উদাহরণ।
  • তার রচিত পুস্তক কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলা হতে বীজগণিতের ইংরাজী নাম আলজেবরা উত্পত্তি লাভ করে।
  • Algorithm শব্দটি Alkhwarizmi নামের ল্যাটিন অপভ্রংশ algorismi হতে উত্পত্তি লাভ করেছে।

পাটিগণিতে অবদান

পাটিগণিতেও অসামান্য পারদর্শী ছিলেন। তিনিই প্রথম শূণ্য (0) সহ অন্যান্য সংখ্যার ব্যবহার শুরু করেন, তাঁর মাধ্যমেই ইউরোপ শূণ্যের ব্যাবহার শিক্ষা লাভ করে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান

জ্যোতির্বিজ্ঞানে আল খারিযমি একটি স্মরণীয় নাম । এ শাস্ত্রে তিনি বহু মৌলিক অবদান রেখে গেছেন, তাঁর রচিত ‘নির্ঘণ্ট’ প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর সাহায্যে ইবনে আলী জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর পর্যবেক্ষণ চালান এবং এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।

আল ফারাগণী তাঁর যুগের একজন শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন। তাঁর রচিত ‘জ্যোতির্বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্তসার’ (Elements of Astronomy) ক্রিমেনার জিয়ার্ড ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন।

ভূগোলে অবদান

তাঁর রচিত সুরত-আল-আরদ (The image of the Earth) গ্রন্থটি বিশ্বের প্রথম মানচিত্র হিসেবে বিবেচিত।

ত্রিকোনোমিতিতে অবদান

আল খোয়ারিজমি রচিত জিজ আল সিন্দহিন্দে ত্রিকোণমিতি নিয়ে কম কাজ থাকলেও তা বেশ গুরুত্বপুর্ণ। এই বইয়ে ত্রিকোণমিতিক ফাংশন সাইন এবং কোসাইন-এর অনুপাত নির্ণয় করে এগুলোকে তার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিলে সংযুক্ত করেন। গোলকীয় ত্রিকোণমিতি নিয়েও খোয়ারিজমির একটি বই রয়েছে।

 

৬-হাসান ইবনে আল-হাইসামঃ

ইবনে হাইছাম – ৯৬৫-১০৪০)পশ্চিমা বিশ্বে তিনি আল-হাইজেন নামে সমধিক পরিচিত।ইবনে হাইছাম প্রখ্যাত পদার্থবিদ, জ্যোতির্বিদ, প্রকৌশলী, গণিতবিদ, চিকিৎসাবিদ, দার্শনিক, মনোবিজ্ঞানী, আবু আলী আলহাছান ইবনে আল হাছান আল ইবনে হাইছাম। আলোকবিজ্ঞানে অসামান্য সংযোজন ‘কিতাবুল মানাজির’-এর ১৫-১৬ অধ্যায়ে জ্যোতির্বিদ্যার আলোচনা রেখেছেন।

এ ছাড়া, তার ‘মিযান আল-হিকমাহ’ এবং ‘মাক্বাল ফি দ্য আল-ক্বামার’ গ্রন্থদ্বয়ে তিনি সর্বপ্রথম গাণিতিক জ্যোতির্বিদ্যা এবং পদার্থবিদ্যার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চালান।তিনি কায়রোয় ফাতেমীয় খলিফার দরবারে জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন। গ্রন্থ রচনা, চুক্তি সম্পাদনা এবং দরবারের অভীজাত সদস্যদের গৃহশিক্ষক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।

 

৭- আল রাযীঃ

আল-রাযী আবু বকর মোহাম্মাদ ইবন যাকারিয়া আল রাযী বা আল-রাযী। তিনি ৮৪১ খ্রিস্টাব্দে ইরানের তেহরানে জন্ম গ্রহণ করেন। রাযী ছিলেন একজন দক্ষ পার্সিয়ান চিকিৎসক এবং দার্শনিক। তিনি চিকিৎসা বিদ্যা, আল-কেমি, পদার্থবিদ্যা এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ১৮৪ টিরও বেশি বই লিখেছেন। তিনি সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার করেন। তিনি ইথানল উৎপাদন, বিশোধন, ও চিকিৎসায় এর ব্যবহার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন।

জন্মঃ তিনি ৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইরানের তেহরানে জন্ম গ্রহণ করেন।

মৃত্যুঃ তিনি ৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

 

৮- আল ফারাবিঃ

আল ফারাবি (৮৭২ – ৯৫০ খৃঃ) মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আল ফারাবির আসল নাম আবুনাসের মোহাম্মদ ইবনে ফারাখ আল ফারাবি। জ্ঞানের অন্বেষণে তিনি ছুটে গিয়েছেন দামেস্কে, মিসরে এবং দেশ-বিদেশের আরও বহুস্থানে। পদার্থ বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রভৃতিতে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে বিজ্ঞান ও দর্শনে তার অবদান ছিল সর্বাধিক। পদার্থ বিজ্ঞানে তিনিই “শূন্যতার” অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন।

অবদান

আল ফারাবী দর্শন ছাড়াও যুক্তিবিদ্যা ও সঙ্গীত-এর ন্যায় জ্ঞানের বিস্তর শাখায় অবদান রাখেন। আল মদিনা আল ফাজিলা বা আদর্শ নগর তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ। কিতাব আল মুসিকি আল কবির বা সঙ্গীতের মহান গ্রন্থ তার আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ।

 

৯- আল বাত্তানিঃ

আল বাত্তানি (৮৫৮ – ৯২৯ খৃঃ) ৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত বাত্তান নামকস্থানে আল বাত্তানি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন অঙ্কশাস্ত্রবিদ এবং একজন জ্যোতির্বিদ। তিনিই সর্বপ্রথম নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়েছিলেন যে এক সৌর বছরে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে হয়। তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে সূর্যের আপাত ব্যাসার্ধ বাড়ে ও কমে। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ সম্বন্ধেও তার বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট। আল বাত্তানি তার নিজস্ব উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন যে সূর্য তার নিজস্ব কক্ষপথে গতিশীল। এই মহান মনীষী ৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ৭২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানঃ

জ্যোতির্বিদ্যায় আল বাত্তানীর সর্বাধিক পরিচিত অর্জন হল সৌরবর্ষ নির্ণয়।আল বাত্তানীই প্রথম নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়েছিলেন যে, এক সৌর বৎসরে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড হয় যার সাথে আধুনিক পরিমাপের পার্থক্য মাত্র ২ মিনিট ২২ সেকেন্ড কম।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে টলেমির আগের কিছু বৈজ্ঞানিকের ভুলও তিনি সংশোধন করে দেন। সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ সম্পর্কিত টলেমি যে মতবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, আল বাত্তানি তা ভুল প্রমান করে নতুন প্রামাণিক তথ্য প্রদান করেন। অনেক শতাব্দী কোপের্নিকুস কর্তৃক আবিষ্কৃত বিভিন্ন পরিমাপের চাইতে আল বাত্তানীর পরিমাপ অনেক বেশী নিখুত ছিল।

গণিতঃ

তিনি ত্রিকোণমিতি নিয়ে বিস্তর কাজ করেন এবং সাইন, কোসাইন, ট্যানজেন্ট, কোট্যানজেন্ট ইত্যাদি ধারণা নিয়ে কাজ করেন।

 

১০- ইবনে খালদুনঃ

ইবনে খালদুন (পুরো নাম, আরবি: أبو زيد عبد الرحمن بن محمد بن خلدون الحضرمي‎‎, আবু জায়েদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন খালদুন আল হাদরামি; মে ২৭, ১৩৩২ খ্রিষ্টাব্দ /৭৩২ হিজরি – মার্চ ১৯, ১৪০৬ খ্রিষ্টাব্দ/৮০৮ হিজরি) ছিলেন একজন আরব মুসলিম পন্ডিত। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও অর্থনীতির জনকদের মধ্যে তাকে অন্যতম বিবেচনা করা হয়।

ইবনে খালদুন তার বই মুকাদ্দিমার জন্য অধিক পরিচিত। এই বই ১৭ শতকের উসমানীয় ইতিহাসবিদ কাতিপ চেলেবি ও মোস্তফা নাইমাকে প্রভাবিত করে। তারা উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে এই বইয়ের তত্ত্ব ব্যবহার করেন। ১৯ শতকের ইউরোপীয় পন্ডিতরা এই বইয়ের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং ইবনে খালদুনকে মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের অন্যতম হিসেবে গণ্য করতেন।

 

বিশ্বসেরা মুসলিম বিজ্ঞানীঃ

১. বিজ্ঞানের যুবরাজ ইবনে সীনা
২. বিজ্ঞানী ও কবি ওমর ইবনুল খৈয়াম
৩. ইবনে নাফিস : ফুসফুসে রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতির আবিষ্কারক
৪. দার্শনিক ও বিজ্ঞানী আল ফারাবী
৫. হাসান ইবনুল হাইছাম : ফটোগ্রাফীর জনক
৬. বিজ্ঞান জগতে ইবনে যুহর পরিবার
৭. ইবনে খালদুন : সমাজ বিজ্ঞানের জনক
৮. মূসা আল খারিজমী : বীজগণিতের জনক
৯. গণিতবিদ আবু রায়হান আল বিরুনী
১০. দার্শনিক ও বিজ্ঞানী আল কিন্দি
১১. মনীষী ও বিজ্ঞানী ইবনে রুশ্দ
১২. দার্শনিক ও যুক্তিবিদ মুহাম্মদ আল গাযালী
১৩. রসায়নবিদ জাবির ইবনে হাইয়ান
১৪. চিকিৎসাবিদ আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আর রাজী
১৫. চিকিৎসা বিজ্ঞানী আবুল কাসেম খালাফ আজ্জাহরাবী
১৬. বাঙালী চিকিৎসাবিদ মুহাম্মদ আল মাহাদী বিন আলী আল হিন্দ সুনপুরী
১৭. উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ইবনুল বায়তার
১৮. উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ইবনে জুলজুল

LEAVE A REPLY