অনেকেই আপনারা ব্যবসার জন্য বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলতে চান, আর এজন্যই আমরা আজকের আর্টিকেলে বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো।
যারা মোবাইল রিচার্জ , বিকাশ ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট সহ বিকাশ পেমেন্ট সার্ভিস দিতে চান, তারা অবশ্যই বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলবেন।
এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। বিকাশ থেকে বোনাস পাওয়া যায়, পাশাপাশি ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ থাকে।
মূলত আপনি এই একাউন্টের মাধ্যমে ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট ব্যবসা করতে পারবেন। চলুন এবার এই অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে আসি।
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট কী?
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট হলো এমন একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট, যা ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়।
এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন বিকাশ সেবা প্রদান করা যায়।
অবশ্যই পড়বেনঃ
যারা ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন অথবা নিজের দোকান থেকে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
বিশেষ করে বিকাশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন। এতে করে আপনি বিকাশ সম্পর্কিত সকল সেবা গুলো দিতে পারবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের কোটি কোটি গ্রাহক বিকাশ ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করে থাকে। এজন্য বিকাশ সার্ভিসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
এজন্য আপনি বিকাশ এজেন্ট হয়ে কাজ করার জন্য বিকাশের পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলতে পারেন। এই একাউন্ট খুললে অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল ও বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট প্রায় একই ধরনের একাউন্ট। অ্যাকাউন্ট একই কিন্তু নাম ভিন্ন ভিন্ন। মূলত বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের আরেকটি নাম হলো বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট।
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের সুবিধা
বিকাশ রিটেইল একাউন্ট ব্যবহার করলে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। যেমনঃ
- ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট সেবা প্রদান
- মোবাইল রিচার্জ করা
- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ
- টাকা পাঠানো ও গ্রহণের সুবিধা
- নির্ধারিত কমিশন অর্জনের সুযোগ
- ব্যবসার গ্রাহক বৃদ্ধি
- বিকাশের বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও বোনাস সুবিধা (যোগ্যতার ভিত্তিতে)
আর এই বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলতে দোকানের অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স এর প্রয়োজন নেই।
সরাসরি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে অ্যাপ ব্যবহার করে একাউন্ট খোলা যায়। আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়েই তাদের অ্যাপে এই পার্সোনাল অ্যাকাউন্টটি খুলতে পারবেন।
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খোলার যোগ্যতা
রিটেইল একাউন্ট খুলতে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হয়। এরপরেই আপনি বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলতে পারবেন। একাউন্ট খোলার পূর্বে নিজের শর্তগুলো ভালোভাবে দেখে নিন।
- সর্বপ্রথম আপনাকে বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
- এরপর বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
- সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
- একটি ব্যবসা বা দোকান পরিচালনা করতে হবে।
- ব্যবসার ঠিকানা যাচাইযোগ্য হতে হবে।
- বিকাশের নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ করলেই বিকাশের এই বিশেষ অ্যাকাউন্টটি খুলতে পারবেন। আর এই অ্যাকাউন্ট খোলা হলেই আপনি বিকাশ থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে কমিশন নিয়ে আয় করতে পারবেন।
বিকাশের এজেন্ট হয়ে বিকাশের সকল সার্ভিস গুলো দিতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট কমিশনে উপার্জন করতে পারবেন।
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলতে কী কী লাগবে?
আবেদন করার সময় সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। তাই এই কাগজপত্র গুলো সঙ্গে রেখে একাউন্ট খোলার চেষ্টা করবেন। কারণ আপনাকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ডিটেইলস পূরণ করতে হবে।
পাশাপাশি সরাসরি কাস্টমার কেয়ার থেকে একাউন্ট খোলার জন্য হলেও এ কাগজগুলো সাথে নিয়ে যেতে হবে।
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- দোকানের ছবি
- ট্রেড লাইসেন্স (যদি থাকে)
- মোবাইল নম্বর
- ব্যবসার ঠিকানার তথ্য
এলাকা ও পরিবেশকের (Distributor) নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত কিছু তথ্যও চাওয়া হতে পারে। তবে আপনি ঘরে বসে এই কাগজপত্রগুলো ছাড়াই একাউন্ট খুলতে পারবেন।
এক্ষেত্রে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সময় জাতীয় পরিচয় পত্রের স্ক্যান করা ছবি দিতে হবে এবং নিজের সেলফি ক্যামেরা দিয়ে ছবি আপলোড করতে হবে। তাহলে আপনাকে আর এক্সট্রা করে কাগজগুলো সংগ্রহ করতে হবে না।
আর যদি আপনি বিকাশের সার্ভিস সেন্টার থেকে এই পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলতে চান, সেক্ষেত্রে এই কাগজগুলো সংগ্রহ করে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি যেই নম্বরে খুলবেন, সেই নম্বর সহ মোবাইল ফোনটি নিয়ে যেতে হবে।
বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম (অফলাইন)
অনলাইন ছাড়াও আপনি বিকাশের কাস্টমার সাপোর্ট থেকে এই একাউন্ট খুলতে পারবেন। একাউন্ট খোলার জন্য সহজেই আবেদন করা যাবে।
এর জন্য আপনাকে আপনার এলাকার নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে। সেখানেই আপনি বিকাশের এই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অবশ্যই সাথে করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো নিয়ে যাবেন। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে সহজেই আবেদন করতে পারবেন।
১. নিকটস্থ বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের সাথে যোগাযোগ করুন
প্রথমে আপনার এলাকার বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর বা অনুমোদিত প্রতিনিধি অফিসে যোগাযোগ করুন। অর্থাৎ বিকাশের সার্ভিস সেন্টারে যান।
২. আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন
ডিস্ট্রিবিউটর আপনাকে একটি আবেদন ফরম প্রদান করবে। এতে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন
এবার ফরমের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সকল কাগজপত্র গুলো সঙ্গে রাখবেন।
৪. তথ্য যাচাই
বিকাশ কর্তৃপক্ষ আপনার তথ্য এবং ব্যবসার অবস্থান যাচাই করবে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার বিকাশের এই পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলে দিবে।
৫. অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন
যাচাই সম্পন্ন হলে আবেদন অনুমোদিত হবে এবং আপনার রিটেইল একাউন্ট চালু করা হবে। আর অ্যাকাউন্ট চালু হতে খুব বেশি সময় লাগে না। তথ্য ঠিক থাকলে খুব দ্রুত অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যায়।
৬. লেনদেন শুরু করুন
অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউটসহ অন্যান্য সেবা দিতে পারবেন। এভাবেই অফলাইনে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
অনলাইনে বিকাশ রিটেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম
বিকাশের কাস্টমার সেন্টার অফিসে না গিয়েও তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বিকাশ রিটেইল একাউন্ট খোলা যাবে।
এতে করে আপনি ঘরে বসেই বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন। একাউন্ট খোলার জন্য নিম্নের ধাপ গুলো অনুসরণ করুনঃ
ধাপ – ১
বিকাশের রিটেইল বা মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য সর্বপ্রথম তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। অথবা সরাসরি বিকাশ মার্চেন্ট পেজে যান।
ধাপ – ২
এখন আপনার সামনে বিকাশ মার্চেন্ট বা রিটেইল একাউন্ট খোলার জন্য একটি সাইন আপ ফ্রম আসবে। অর্থাৎ আবেদন ফরম পাবেন। এই ফর্মটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে।

ধাপ – ৩
এখন আপনাকে আবেদন ফ্রম এ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। এখানে আপনাকে মূলত
- দোকানের নাম লিখতে হবে।
- আপনি কোন জেলায় থাকেন সেটা সিলেক্ট করবেন।
- এরপর নিজের নাম লিখবেন।
- এবার আপনাকে যোগাযোগ নাম্বার দিতে হবে, যেই নম্বরে একাউন্ট খুলবেন সেই নম্বর লিখবেন।
- এছাড়াও আপনি চাইলে ইমেইল ঠিকানা দিতে পারেন।
- এরপর জাতীয় পরিচয় পত্র আছে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
- এবার ট্রেড লাইসেন্স দিতে বলবে, যদি না থাকে সে ক্ষেত্রে না অপশনে ক্লিক করুন।
- এবার সর্বশেষে জমা দিন বাটনে ক্লিক করে আবেদন ফরমটি সাবমিট করুন।
এভাবেই আপনি অনলাইনের মাধ্যমে বিকাশ মার্চেন্ট বা রিটেল অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
পরবর্তীতে বিকাশের অফিসিয়াল এজেন্ট বা অফিসার আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং অ্যাকাউন্ট একটিভ করে দেবে। মূলত তারা তথ্য আগে যাচাই বাছাই করবে, সঠিক তথ্য দিলে খুব দ্রুত সময়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে যায়।
বিকাশ রিটেইল একাউন্টে কী কী সেবা দেওয়া যায়?
একজন রিটেইলার হিসেবে আপনি সাধারণত নিচের সেবাগুলো দিতে পারবেন।
- ক্যাশ ইন
- ক্যাশ আউট
- সেন্ড মানি
- মোবাইল রিচার্জ
- মার্চেন্ট পেমেন্ট
- ইউটিলিটি বিল পরিশোধ
- সরকারি ফি পরিশোধ (যেখানে প্রযোজ্য)
- অন্যান্য বিকাশ সেবা
বিকাশ রিটেইল একাউন্টে কমিশন কীভাবে পাওয়া যায়?
রিটেইলারদের আয় মূলত বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের ওপর নির্ভর করে। যেমনঃ
- ক্যাশ আউট কমিশন
- ক্যাশ ইন কমিশন (নীতিমালা অনুযায়ী)
- মোবাইল রিচার্জ কমিশন
- বিশেষ ক্যাম্পেইন বোনাস
- নির্দিষ্ট সময়ের ইনসেনটিভ
কমিশনের হার সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য বিকাশের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট কি সবাই খুলতে পারে?
না। সাধারণত যাদের ব্যবসা বা দোকান রয়েছে এবং বিকাশের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন, তারাই আবেদন করতে পারেন।
চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
তাছাড়াও এই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয় যা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছি। সে শর্তগুলো পূরণ করলেই আপনি বিকাশ পার্সোনাল রিটেল বা মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন।
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের সুবিধা
- অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাওয়া যায়
- গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়
- নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন সার্ভিস দেওয়া যায়
- জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা ব্যবহার
- ব্যবসার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি
উপসংহার
বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তাই ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট একটি কার্যকর সুযোগ হতে পারে।
সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করলে আপনি গ্রাহকদের বিভিন্ন আর্থিক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও তৈরি করতে পারবেন।
আবেদন করার আগে সব তথ্য যাচাই করুন এবং শুধুমাত্র বিকাশের অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমেই আবেদন সম্পন্ন করুন।
আর অনলাইনে আবেদন করতে না জানলে বিকাশের অফিসে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে সাহায্য নিতে পারেন।

আমি উদ্ভাস আইটির এডমিন, একজন অনলাইন ইনকাম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গত ৫ বছর যাবত আমি ব্লগিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি। অনলাইন আয়ের বাস্তব ও কার্যকরী উপায়, প্রযুক্তির আপডেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নানা দিক নিয়ে আমি নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি। লক্ষ্য একটাই পাঠকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা।

























































