আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যা জানলে হয়তো আপনারা দীর্ঘদিন ধরে আইপিএস এর ব্যাটারির ভালো রাখতে পারবেন।
বর্তমানে আমাদের দেশে বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাকআপ পাওয়ার দেওয়ার জন্য আইপিএস ব্যবহার হয়। প্রায় কম বেশি সকলের বাড়িতেই আইপিএস রয়েছে।
এই আইপিএস এর ব্যাটারি ভালো রাখার কিছু নিয়ম রয়েছে। বিশেষ করে সঠিক নিয়মে ব্যাটারিতে পানি দিতে হয়। তা না হলে আই পি এস এর ব্যাটারির দীর্ঘায়ু কমে আসে। চলুন এবার বিস্তারিত সকল তথ্যগুলো জেনে আসি।
আইপিএসের ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম: সঠিক পদ্ধতি ও সতর্কতা
বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাকআপ পাওয়ার দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে আইপিএস বেশ জনপ্রিয়। তবে দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স পাওয়ার জন্য শুধু আইপিএস ব্যবহার করলেই হবে না, এর ব্যাটারিরও নিয়মিত যত্ন নিতে হবে।
বিশেষ করে যেসব লিড-অ্যাসিড ব্যাটারিতে পানি যোগ করার প্রয়োজন হয়, সেগুলোর পানির স্তর নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই জানেন না আইপিএসের ব্যাটারিতে কোন পানি দিতে হয়, কতটুকু পানি দিতে হয় এবং কতদিন পরপর পানি পরীক্ষা করা উচিত। আবার ভুল ধরনের পানি ব্যবহার করলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।
অবশ্যই পড়বেনঃ
এই আর্টিকেলে আইপিএসের ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম, সঠিক পানি নির্বাচন, কতটুকু পানি দিতে হবে এবং ব্যাটারি ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস গুলো সহজ ভাবে আলোচনা করব।
আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দিতে হয় কেন?
ফ্লাডেড লিড-অ্যাসিড বা টিউবুলার ধরনের ব্যাটারিতে ইলেকট্রোলাইট থাকে। ব্যাটারি চার্জ ও ব্যবহারের সময় ইলেকট্রোলাইটের পানির অংশ ধীরে ধীরে কমে যায়।
মূলত ব্যাটারি চার্জ ও ডিসচার্জ হওয়ার সময় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় গরম হওয়ার কারণে ভেতরের পানি বাষ্প হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে পানির পরিমাণ কমতে থাকে।
আর এই পানির স্তর অতিরিক্ত কমে গেলে ব্যাটারির প্লেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে ব্যাটারির ব্যাকআপ কমে যেতে পারে এবং এর কার্যক্ষমতা ও আয়ুতে প্রভাব পড়তে পারে।
এইজন্য আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দিতে হয়। তবে আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সঠিকভাবে পানি দিলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব।
আর ব্যাটারির পারফরম্যান্স ভালো রাখতে অবশ্যই সঠিক পানি দিতে হবে। কোন ধরনের পানি দিবেন তা আমরা একটু পরে জানিয়ে দেবো।
তবে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের আইপিএস ব্যাটারিতে পানি দিতে হয় না। মেইনটেন্যান্স-ফ্রি বা সিলড ব্যাটারিতে সাধারণত ব্যবহারকারীকে পানি যোগ করতে হয় না।
আইপিএসের ব্যাটারিতে কোন পানি ব্যবহার করবেন?
আইপিএসের ব্যাটারিতে সাধারণত ডিস্টিলড পানি বা ব্যাটারির জন্য উপযুক্ত ডিমিনারেলাইজড পানি ব্যবহার করা হয়।
কলের পানি, পুকুরের পানি, নদীর পানি কিংবা সাধারণ মিনারেলযুক্ত পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব পানিতে বিভিন্ন খনিজ ও অমেধ্য থাকতে পারে,
যা ব্যাটারির কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইপিএস এর ব্যাটারীতে যেকোনো ধরনের পানি ব্যবহার করার পূর্বে সতর্ক থাকুন।
বিশেষ করে পানি কেনার সময় সেটি ব্যাটারি ব্যবহারের উপযোগী কি না নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারির পানি কেনার সময় দেখবেন বোতলের গায়ে distilled water, battery grade water লেখা থাকবে।
এই লেখাযুক্ত distilled ওয়াটার কিনবেন। কিনার আগে অবশ্যই সাবধান হবেন। সকল কিছু যাচাই বাছাই করে তারপরে কিনবেন।
কারণ বর্তমানে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বোতলের গায়ে distilled water লেখা দেখিয়ে সাধারণ পানি বিক্রি করে।
যা মূলত কিনে ব্যবহার করলে আইপিএস এর ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। তাই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যান্ডের থেকে আইপিএস এর ব্যাটারির জন্য পানি কিনবেন।
এছাড়াও অনেকেই মনে করেন ফোটানো পানি আইপিএস এর ব্যাটারীতে ব্যবহার করা যায়। মূলত ফোটানো পানি বিশুদ্ধ হলেও সেখানে খনিজ পদার্থ থেকে যায়। যার ফলে পানি ফুটিয়ে আপনি সেটি আইপিএস এর ব্যাটারিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।
আইপিএসের ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম
ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার আগে প্রথমে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার ব্যাটারিতে পানি যোগ করার প্রয়োজন রয়েছে। ব্যাটারির গায়ে থাকা লেবেল বা ব্যবহারকারী ম্যানুয়াল দেখে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়াও আপনি ব্যাটারিতে থাকা ঢাকনা খুলে দেখতে পারেন। পানির স্তর কমে গেলে বা পানি কম হয়ে গেলে তখন ব্যাটারিতে পানি যোগ করতে পারেন। তবে এখন আমরা ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
১. ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম থাকলে অপেক্ষা করুন
আইপিএস দীর্ঘ সময় চলার পর ব্যাটারি গরম থাকতে পারে। ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম অবস্থায় কাজ না করে কিছুটা ঠান্ডা হতে দেওয়া ভালো।
এজন্য ব্যাটারি ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। ব্যাটারি কিছুটা ঠান্ডা হলে তখন আপনি ব্যাটারিতে পানি যোগ করতে পারেন। এছাড়াও ব্যাটার অতিরিক্ত গরম থাকলে ঠান্ডা করার জন্য আইপিএস এর লাইন অফ করে দিতে পারেন।
২. পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় কাজ করুন
ব্যাটারি এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। ব্যাটারির কাছে আগুন, ধূমপান বা কোনো ধরনের স্পার্ক রাখা যাবে না।
৩. পানির স্তর পরীক্ষা করুন
ব্যাটারির নির্ধারিত ক্যাপ বা অংশ খুলে পানির স্তর পরীক্ষা করুন। অনেক ব্যাটারিতে MIN এবং MAX লেভেল দেওয়া থাকে।
যদি পানির স্তর MIN-এর নিচে নেমে যায়, তাহলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিস্টিলড পানি যোগ করতে হবে। এছাড়াও আপনি ব্যাটারির ক্যাপ খুলে নিজে থেকে বুঝতে পারবেন পানি আসলে কমে গিয়েছে কিনা।
সে অনুযায়ী আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি যোগ করতে পারেন। অনেক ব্যাটারীতে পানি দেওয়ার লেভেল থাকে। সেই লেভেল পর্যন্ত পানি যোগ করতে পারবেন।
৪. ধীরে ধীরে পানি দিন
পরিষ্কার ও উপযুক্ত পাত্র ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ডিস্টিলড পানি যোগ করুন। একবারে অতিরিক্ত পানি ঢেলে দেওয়া উচিত নয়।
ধীরে ধীরে ব্যাটারিতে ডিস্টিলড পানি যোগ করুন, অতিরিক্ত পানি দিবেন না। নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পানি দিন।
আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার জন্য অনেকগুলো ঢাকনা বা ক্যাপ থাকে। প্রতিটি ঢাকনা খুলে সমানভাবে পানি দিন, অর্থাৎ সমপরিমাণ পানি দিবেন। কোনটাই অতিরিক্ত বা কম পানি দেবেন না।
আর আধুনিক ব্যাটারিগুলোতে বর্তমানে লেভেল দেওয়া থাকে। কোন লেভেল পর্যন্ত পানি দিবেন তা সেখানে লেখাই থাকে।
৫. MAX লেভেলের বেশি পানি দেবেন না
ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সময় নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করা যাবে না। অতিরিক্ত পানি দিলে ব্যাটারি চার্জ হওয়ার সময় তরল উপচে পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
তাই ব্যাটারিতে থাকা MIN-MAX চিহ্ন বা প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ব্যাটারিতে পুরোপুরি ভাবে পানি দিবেন না। ব্যাটারিতে থাকা নির্দিষ্ট চিহ্ন পর্যন্ত পানি যোগ করুন।
৬. ক্যাপ ঠিকভাবে লাগিয়ে দিন
সর্বশেষে পানি দেওয়া শেষ হলে ব্যাটারির ক্যাপগুলো সঠিকভাবে লাগিয়ে দিন। ব্যাটারির বাইরে পানি বা কোনো তরল পড়ে থাকলে নিরাপদভাবে পরিষ্কার করুন।
যথা সম্ভব ব্যাটারীতে পানি দেওয়ার সময় হাতে গ্লোবস ব্যবহার করুন। কারণ ব্যাটারির ভেতরে থাকা এসিড আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
পাশাপাশি ব্যাটারীতে পানি দেওয়ার সময় হাত কোনোভাবেই চোখে বা মুখে লাগাবেন না। বিশেষ করে চোখ মুছবেন না, এই সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
কতদিন পরপর আইপিএস ব্যাটারিতে পানি দিতে হয়?
সব ব্যাটারিতে একই সময় পরপর পানি দিতে হয় না। ব্যাটারির ধরন, ব্যবহার, পরিবেশের তাপমাত্রা এবং চার্জিং সিস্টেমের ওপর পানির প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে।
তাই নির্দিষ্টভাবে ১৫ দিন বা ৩০ দিন পরপর পানি দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করার পরিবর্তে নিয়মিত পানির স্তর পরীক্ষা করা ভালো।
ব্যাটারিতে অস্বাভাবিক দ্রুত পানি কমে গেলে শুধু পানি যোগ না করে আইপিএসের চার্জিং ব্যবস্থা ও ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত।
আর ব্যাটারির পানি ঠিক রয়েছে কিনা তা প্রতিনিয়ত চেক করবেন। প্রতিমাসে হয়তো একবার হলেও চেক করুন। ব্যাটারিতে থাকা প্রতিটি সেল খুলে চেক করুন।
প্রতিটি সেল এর ঢাকনা বা ক্যাপ রয়েছে। সেটি খুলে দেখুন নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত পানি রয়েছে কিনা। যদি দেখেন পানি ব্যাটারির নির্দিষ্ট লেভেল থেকে কমে গেছে, তখন পানি যোগ করতে পারেন।
প্রতিটি ব্যাটারীতে পানির নির্দিষ্ট লেভেল বা ইন্ডিকেটর থাকে। সেটি দেখে পানির পরিমাণ ঠিক রয়েছে কিনা বোঝা যায়। এছাড়াও হঠাৎ আইপিএস এর ব্যাটারি ব্যাকআপ কমে গেলে তখন পানির স্তর পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
পাশাপাশি ব্যাটারি গরম হয়ে গেলে বা হালকা গন্ধ পেলে ব্যাটারি চেক করুন। আমার মধ্যে যাদের এলাকায় কারেন্ট কম থাকে এবং আইপিএস বেশি ব্যবহার হয়।
তারা প্রতি সপ্তাহে আইপিএস এর ব্যাটারির পানির লেভেল চেক করে দেখবেন। পাশাপাশি ব্যাটারি সঠিকভাবে চার্জ হচ্ছে কিনা দেখবেন।
আইপিএস ব্যাটারিতে কি কলের পানি দেওয়া যায়?
না, সাধারণত আইপিএস ব্যাটারিতে কলের পানি ব্যবহার করা উচিত নয়।কলের পানিতে বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে।
এসব উপাদান ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।ব্যাটারির জন্য উপযুক্ত ডিস্টিলড পানি ব্যবহার করাই ভালো।
আশাকরি বুঝতে পারতেন আইপিএস এর ব্যাটারিতে কলের পানি ব্যবহার করা যায় না। আইপিএস এর ব্যাটারির জন্য উপযুক্ত পানি ব্যবহার করুন। আর অবশ্যই আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করবেন।
আইপিএস ব্যাটারিতে মিনারেল পানি দেওয়া যাবে?
আইপিএস এর ব্যাটারীতে মিনারেল পানি ব্যবহার করা যাবে না। কারণ মিনারেল পানিতে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ থাকে, যদিও পানি বিশুদ্ধ।
তবে এখানে খনিজ থাকে, যার ফলে এই পানি আইপিএস এর ব্যাটারিতে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। আইপিএস ব্যাটারির জন্য নির্ধারিত ডিস্টিলড পানি ব্যবহার করুন।
নতুন আইপিএস ব্যাটারিতে কি পানি দিতে হয়?
নতুন অবস্থায় আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি অনেক সময় দেওয়া লাগতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পানি দিয়েই বিক্রি করে।
এক্ষেত্রে আপনার নতুন আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবুও আপনি চেক করে দেখতে পারেন, যদি পানির লেভেল কমে যায়।
তখন আপনি সঠিক নিয়ম অনুযায়ী আইপিএস এর ব্যাটারীতে ডিস্টিলড পানি যোগ করতে পারেন। তবে আমার মতে যখন নতুন আইপিএস কিনবেন, তখন দোকান থেকেই ভালোভাবে ব্যাটারি চেক করে নিবেন।
ব্যাটারিতে পানি লেভেল কম থাকলে দোকানদার অথবা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের থেকে সঠিকভাবে পানি যোগ করে নিন।
কোন ব্যাটারিতে পানি দিতে হয় না?
সিলড বা মেইনটেন্যান্স-ফ্রি ব্যাটারিতে সাধারণত ব্যবহারকারীর পানি যোগ করার প্রয়োজন হয় না।আপনার ব্যাটারি যদি সিলড ধরনের হয়, তাহলে নিজে থেকে সেটি খুলে পানি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। ব্যাটারির লেবেল ও ম্যানুয়াল দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন।
আইপিএস ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়
সঠিকভাবে পানি দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি। ব্যাটারি ভালো রাখতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন।
ব্যাটারি পরিষ্কার রাখুন
ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত ধুলাবালি ও ময়লা জমতে দেবেন না। পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখুন।
আর ব্যাটারির আসে পাশে সব সময় পরিষ্কার রাখবেন এবং দাহ্য পদার্থ থেকে ব্যাটারি দূরে রাখবেন। ব্যাটারি এমন স্থানে রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে।
অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করুন
ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম পরিবেশে রাখলে এর কর্মক্ষমতা ও আয়ুতে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ব্যাটারি রাখা ভালো। মাঝে মাঝে আইপিএস ব্যবহার অফ করে রাখতে পারেন।
অতিরিক্ত লোড ব্যবহার করবেন না
আইপিএসের নির্ধারিত ক্ষমতার তুলনায় বেশি লোড ব্যবহার করলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এতে ব্যাকআপ সময় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
যার ফলে ব্যাটারির আয়ু কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য আইপিএস এর নির্ধারিত ক্ষমতার বেশি লোড দিবেন না।
চার্জিং সিস্টেম পরীক্ষা করুন
ব্যাটারিতে অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত পানি কমে গেলে আইপিএসের চার্জিং সিস্টেম পরীক্ষা করা দরকার। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।
আইপিএস ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সময় সতর্কতা
ব্যাটারির ইলেকট্রোলাইট ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে। তাই ব্যাটারিতে কাজ করার সময় যথেষ্ট সতর্ক থাকা উচিত। নিচের সতর্কতা গুলো অবলম্বন করুনঃ
- ব্যাটারির তরল শরীরে বা চোখে লাগতে দেবেন না।
- ব্যাটারির কাছে আগুন বা স্পার্ক তৈরি করবেন না।
- ব্যাটারীতে কাজ করার সময় ধূমপান করবেন না।
- ব্যাটারির টার্মিনালে ধাতব বস্তু স্পর্শ করাবেন না।
- ডিস্টিলড পানি ছাড়া অন্য পানি ব্যবহার করবেন না।
- ব্যাটারিতে নিজে থেকে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক যোগ করবেন না।
- নির্ধারিত MAX লেভেলের বেশি পানি দেবেন না।
- ব্যাটারি ফুলে গেলে বা লিক করলে নিজে কাজ না করে টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।
- ব্যাটারি অস্বাভাবিকভাবে গরম হলে ব্যবহার বন্ধ করে পরীক্ষা করান।
উপসংহার
আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করে সঠিক নিয়মে ব্যাটারিতে পানি যোগ করুন। আমরা সঠিকভাবে পানি দেয়ার নিয়ম জানিয়ে দিয়েছি। তবে মনে রাখুন সব আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
আপনার ব্যাটারি যদি পানি যোগ করার উপযোগী হয়, তাহলে নির্ধারিত লেভেল অনুযায়ী শুধুমাত্র উপযুক্ত ডিস্টিলড পানি ব্যবহার করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কলের পানি বা সাধারণ মিনারেল পানি ব্যবহার না করা, MAX লেভেলের বেশি পানি না দেওয়া এবং ব্যাটারিতে কোনো ধরনের অ্যাসিড বা রাসায়নিক নিজে থেকে যোগ না করা।
ব্যাটারিতে লিকেজ, ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে পানি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের পরামর্শ নিন।

আমি উদ্ভাস আইটির এডমিন, একজন অনলাইন ইনকাম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গত ৫ বছর যাবত আমি ব্লগিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি। অনলাইন আয়ের বাস্তব ও কার্যকরী উপায়, প্রযুক্তির আপডেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নানা দিক নিয়ে আমি নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি। লক্ষ্য একটাই পাঠকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা।

























































